মেরুদন্ডের উপস্থিতির ভিত্তি করে প্রাণিজগৎকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়- অমেরুদন্ডীমেরুদন্ডী প্রাণী।

অমেরুদন্ডী প্রাণী

  • মেরুদন্ড নেই, দেহের ভেতর কঙ্কাল থাকে না
  • যৌগিক চোখ বা পুঞ্জাক্ষি থাকে, প্রতিটি চোখ মূলত অনেকগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র চোখের সমষ্টি
  • লেজ নেই
  • উদাহরণ- মশা, মাছি, প্রজাপতি, কাঁকড়া, কেঁচো ইত্যাদি

অমেরুদন্ডী প্রাণীর মধ্যে অনেক রকমফের আছে। যেমন-

  • যাদের দেহ অনেকগুলো খন্ডে বিভক্ত থাকে, যেমন- কেঁচো ও জোঁক
  • যাদের দেহ শক্ত খোলসে আবৃত ও মাংসল পা থাকে, যেমন- শামুক ও ঝিনুক
  • সামুদ্রিক প্রাণী, যাদের দেহে কাঁটার মত অংশ থাকে, যেমন- তারামাছ ও সামুদ্রিক শশা
  • যাদের দেহে ফাঁপা গহ্বর বা সিলেন্টেরন থাকে এবং খাদ্য গ্রহণ ও বর্জ্য পদার্থ বের করার জন্য একটিমাত্র ছিদ্রপথ থাকে, যেমন- জেলিফিশ ও প্রবালকীট

তবে অমেরুদন্ডী প্রাণীর মধ্যে সবচেয়ে বড় দল হলো পতঙ্গ। পৃথিবীতে পতঙ্গ পর্বভুক্ত প্রাণীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

পতঙ্গ
  • দেহ তিনটি অংশে বিভক্ত- মস্তক, বক্ষ ও উদর
  • সন্ধিযুক্ত পা ও পুঞ্জাক্ষি থাকে
  • উপকারী পতঙ্গ: যেসব পতঙ্গ মানুষের উপকার করে, যেমন- মৌমাছি, রেশম পোকা ইত্যাদি
  • অপকারী পতঙ্গ: যেসব পতঙ্গ মানুষের ক্ষতিসাধন করে, যেমন- মশা ও মাছি রোগ ছড়ায়। উইপোকা, লেদপোকা, পামরীপোকা ইত্যাদি ঘরবাড়ি, আসবাসপত্র ও ফসলের ক্ষতিসাধন করে

মেরুদন্ডী প্রাণী

  • মেরুদন্ড উপস্থিত, দেহের ভেতরে কঙ্কাল থাকে
  • পাখনা অথবা পা থাকে
  • চোখ সরল প্রকৃতির (পুঞ্জাক্ষির মত অনেক চোখের সমন্বয়ে তৈরি না)
  • মানুষ ছাড়া মেরুদন্ডী প্রাণীদের লেজ থাকে
  • ফুলকা বা ফুসফুসের সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়

মেরুদন্ডী প্রাণীর শ্রেণিবিন্যাস

মৎস্য
  • সকল মাছ এই শ্রেণিভুক্ত
  • পানিতে বাস করে
  • বেশিরভাগ মাছে গায়ে আঁশ থাকে, যেমন- ইলিশ, রুই, কৈ ইত্যাদি। অন্যদিকে কিছু মাছের গায়ে আঁশ থাকে না, যেমন- মাগুর, শিং, টেংরা, বোয়াল ইত্যাদি।
  • ফুলকার সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়
  • পাখনা থাকে, যার সাহায্যে সাঁতার কাটে
উভচর
  • জীবনের প্রথম অবস্থায় পানিতে থাকে (ব্যাঙাচি দশা) ও পরিণত বয়সে ডাঙায় বাস করে
  • ত্বকে লোম, আঁশ বা পালক থাকে না
  • দুই জোড়া পা থাকে, তবে পায়ের আঙুলে নখ থাকে না
  • ব্যঙাচি অবস্থায় ফুলকা ও পরিণত অবস্থায় ফুসফুসের সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়
  • উদাহরণ: ব্যাঙ
সরীসৃপ
  • বুকে ভর দিয়ে চলে
  • আঙুলে নখ থাকে
  • ডিম পাড়ে ও ডিম ফুটে বাচ্চা হয়
  • ফুসফুসের সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়
  • উদাহরণ: টিকটিকি, কুমির, সাপ, গিরগিটি ইত্যাদি

পক্ষীকূল (পাখি)

  • দেহ পালক দিয়ে আবৃত। পালক পাখি চেনার অন্যতম বৈশিষ্ট্য, অন্য কোন প্রাণীর পালক থাকে না।
  • বেশিরভাগ পাখি উড়তে পারে। তবে উটপাখি, পেঙ্গুইন প্রভৃতি এর ব্যতিক্রম
  • ডিম পাড়ে ও ডিম ফুটে বাচ্চা হয়
  • উদাহরণ: হাঁস, মুরগি, কবুতর, দোয়েল, পেঙ্গুইন ইত্যাদি

স্তন্যপায়ী

  • মায়েরা বাচ্চা প্রসব করে এবং বাচ্চারা মায়ের দুধ খেয়ে বড় হয়
  • মস্তিষ্ক ও দেহের গঠন উন্নত, অন্যান্য প্রাণী থেকে বুদ্ধিমান
  • মানুষ এই শ্রেণিভুক্ত, অন্য কয়েকটি উদাহরণ- বানর, ইঁদুর, কুকুর, বিড়াল, গরু, ছাগল ইত্যাদি
  • ডলফিন ও তিমি সাধারণভাবে আমরা মাছ মনে করলেও এরা প্রকৃতপক্ষে স্তন্যপায়ী প্রাণী