জীব ও জীবন

জীব কাকে বলে? উত্তর দেয়া সহজ, যার জীবন আছে, তাকে জীব বলে। আর জীবন না থাকলে জড়।

কিন্তু এই সংজ্ঞাকে সম্পূর্ণ করতে আরেকটা প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে, জীবন কাকে বলে? এই প্রশ্নটা কিন্তু ঠিক অতটা সহজ না। চিন্তা করে দেখো অতিক্ষুদ্র ব্যাকটেরিয়া, গাছপালা, ছোটবড় প্রাণী- সবার মধ্যে কতটা তফাৎ। তাহলে ঠিক কোন ব্যাপারগুলো এদেরকে একই সুতোতে গাঁথছে? এই প্রশ্নের উত্তরে আমরা জীবের সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলো খুঁজে বের করে বলতে পারি এই বৈশিষ্ট্যগুলো জীবনের বৈশিষ্ট্য, যেগুলো উপস্থিত থাকলে কোন কিছুকে জীব বলা হবে।

জীবের বৈশিষ্ট্য

১। পুষ্টি লাভ: সবুজ উদ্ভিদসহ কিছু জীব জড় পদার্থ ও আলোকশক্তি থেকে পুষ্টি লাভ করে। এরা স্বভোজী জীব। অন্যদিকে পরভোজী জীব পুষ্টি লাভের জন্য অন্যান্য জীব ভক্ষণ করে।

২। বৃদ্ধি ও বিকাশ: জীবদেহ কোষ নামক গাঠনিক একক দিয়ে গঠিত। সময়ের সাথে জৈবিক প্রক্রিয়ায় জীবদেহে কোষের সংখ্যা বৃদ্ধির মাধ্যমে জীবের বৃদ্ধি ঘটে ও পরিপূর্ণ জীব হিসেবে বিকাশ লাভ করে।

৩। শক্তির রূপান্তর: জীব তার দেহে উৎপন্ন শক্তির রূপান্তর ঘটায়। যেমন: প্রাণীদেহে উৎপন্ন শক্তিকে রূপান্তর করে চলাফেরা (যান্ত্রিক শক্তি), দেহ উষ্ণ রাখা (তাপশক্তি) প্রভৃতিতে ব্যবহার করে।

৪। প্রজনন: প্রজননের মাধ্যমে জীবের বংশবিস্তার ঘটে। যেমন- মানুষ সন্তানসন্ততি জন্ম দেয়। বীজ থেকে নতুন উদ্ভিদ জন্ম নেয়।

৫। পরিবেশের প্রতি প্রতিক্রিয়া: জীব বাহ্যিক পরিবেশের পরিবর্তনের প্রতি প্রতিক্রিয়া প্রদান করে। যেমন আমাদের দেহে মশা বসলে আমরা তা মারতে উদ্দীপ্ত হই। বা সূর্যমুখী ফুল আলোর জন্য সূর্যের দিকে হেলে থাকে।

৬। অভিযোজন: অভিযোজন হলো পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে পরিবর্তনের ক্ষমতা। হাজার হাজার বছরের ব্যবধানে পরিবর্তিত পরিবেশের সাথে জীব অভিযোজিত হয়। যেমন- মরুভূমির গাছের রসালো কান্ড ও কাটায় রূপান্তরিত পাতা পানি ধরে রাখতে ও সাশ্রয় করতে সাহায্য করে। মেরু অঞ্চলের জীব প্রচন্ড ঠান্ডা পরিবেশে টিকে থাকতে পারে।

জড় পদার্থে ক্ষেত্রবিশেষে দুয়েকটি বৈশিষ্ট্য দেখা যেতে পারে। যেমন- শক্তির রূপান্তর। তবে এই সব বৈশিষ্ট্য একসাথে জীবের মধ্যে দেখা যায়।