আমরা কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে পাঁচটি রাজ্যে জীবজগৎকে শ্রেণিবিন্যাস করেছি। কিন্তু এই রাজ্যগুলোর মধ্যেও কতরকম বৈচিত্র আমরা একটু চিন্তা করলেই বুঝতে পারবো। যেমন তেলাপোকা, পাখি, গরু- সবগুলোই প্রাণী, কিন্তু এদের মধ্যে কতরকম তফাৎ! আবার উদ্ভিদের মধ্যে মাঠজুড়ে বাতাসে দোল খাওয়া ঘাস, আর শতবর্ষ ধরে ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকা বটগাছটা কত ভিন্ন। তো এজন্য রাজ্যগুলোকে আমরা বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী আরো বিভিন্ন ভাগে ভাগ করি।

উদ্ভিদজগতের শ্রেণিবিন্যাস

জর্জ বেনথাম ও ডাল্টন হুকার সপুষ্পক উদ্ভিদগুলোর শ্রেণিবিন্যাস করেছেন। তার সাথে অপুষ্পক উদ্ভিদগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করে আমরা নিচের মত উদ্ভিদজগৎকে শ্রেণিবিন্যাস করতে পারে।

উদ্ভিদজগৎ

  • অপুষ্পক উদ্ভিদ
    • সমাঙ্গবর্গীয়
      • শৈবাল
      • ছত্রাক
    • মসবর্গীয়
    • ফার্নবর্গীয়
  • সপুষ্পক উদ্ভিদ
    • নগ্নবীজী
    • আবৃতবীজী
      • একবীজপত্রী
      • দ্বিবীজপত্রী

পঞ্চরাজ্য শ্রেণিবিন্যাসে যদিও আমরা ছত্রাক ও কিছু কিছু শৈবালকে উদ্ভিদজগতের মধ্যে রাখি না, এই শ্রেণিবিন্যাস সেগুলোকে সহ করা হয়েছে।

অপুষ্পক উদ্ভিদ

  • এধরণের উদ্ভিদে ফুল, ফল ও বীজ উৎপন্ন হয় না
  • স্পোর বা রেণুর মাধ্যমে বংশবিস্তার করে
  • তিন ভাগে ভাগ করা হয়- সমাঙ্গবর্গীয়, মসবর্গীয়ফার্নবর্গীয়
সমাঙ্গবর্গীয় উদ্ভিদ
  • দেহ মূল, কান্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না
  • দুই প্রকার- শৈবালছত্রাক
  • সমাঙ্গবর্গীয়দের মধ্যে যাদের ক্লোরোফিল আছে, তথা নিজের খাদ্য তৈরি করতে পারে তারা শৈবাল। যেমন: স্পাইরোগাইরা
  • যাদের দেহে ক্লোরোফিল নেই বা নিজের খাদ্য তৈরি করতে পারে না, তারা ছত্রাক। যেমন: এগারিকাস
  • তবে কিছু শৈবাল ব্যতিক্রম আছে, যাদের ক্লোরোফিল নেই, তবে অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের জন্য শৈবালের অন্তর্ভুক্ত করা হয়
মসবর্গীয় উদ্ভিদ
  • দেহ কান্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায়, তবে মূল থাকে না
  • মূলের পরিবর্তে এক ধরণের সূত্রাকার গঠন থাকে, যাকে রাইজয়েড বলে
  • পুরনো ভেজা বা স্যাতস্যাতে দেয়ালে কার্পেটের মত নরম আস্তরণ তৈরি করে জন্মাতে দেয়া যায়
  • উদাহরণ: ব্রায়াম
ফার্নবর্গীয় উদ্ভিদ
  • দেহ মূল, কান্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায়
  • দেহে পরিবহন টিস্যু থাকে
  • কচি পাতাগুলো কুণ্ডলীত অবস্থায় থাকে
  • স্যাতস্যাতে ছায়াযুক্ত স্থানে বা পুরনো দালানের প্রাচীরে জন্মাতে দেখা যায়
  • উদাহরণ: টেরিস

আমরা আগের দিনের শ্রেণিবিন্যাস বা আজকের শ্রেণিবিন্যাস যদি লক্ষ্য করি, একটা প্যাটার্ন কিন্তু আমরা খুঁজে পাবো। আমরা আমাদের দৃষ্টিতে অনুন্নত বৈশিষ্ট্য থেকে উন্নত বৈশিষ্ট্যের দিকে করে থাকি। অনুন্নত বলতে গঠন খুব সরল প্রকৃতির- যেমন আদিকোষী (অর্থাৎ নিউক্লিয়াস সুগঠিত না), এককোষী এগুলো অনুন্নত বৈশিষ্ট্য। প্রথমদিকের রাজ্যগুলোতে আমরা এধরণের জীবকে রেখেছি। অন্যদিকে উন্নত বলতে দৈহিক গঠনগত ও কার্যিকভাবে জটিল হবে, যেমন- তন্ত্র (টিস্যু) বা অঙ্গ গঠন হবে।

সমাঙ্গবর্গীয়তে থাকা শৈবাল বা ছত্রাকে আমরা দেখেছি দৈহিক গঠন খুব সরল- আলাদা আলাদা অংশে ভাগ করা যাচ্ছে না। মসে আমরা কিছুমাত্রায় ভিন্ন ভিন্ন অংশে চিন্তা করতে পারি। ফার্নবর্গে আমরা প্রথমবারের মত পরিবহন টিস্যু বা তন্ত্রের গঠন দেখছি। সপুষ্পক উদ্ভিদে আমরা আরো জটিল গঠন দেখতে পাই।

সপুষ্পক উদ্ভিদ

  • এধরণের উদ্ভিদে ফুল ও বীজ উৎপন্ন হয়
  • দেহ সুস্পষ্টভাবে মূল, কান্ড ও পাতায় বিভক্ত
  • ফুলের মাধ্যমে পরাগায়ন প্রক্রিয়ায় বংশবিস্তার ঘটে
নগ্নবীজী উদ্ভিদ
  • ফুলে গর্ভাশয় থাকে না, ফলে ফল উৎপন্ন হয় না
  • ফল না থাকাতে বীজ নগ্ন তথা উন্মুক্ত অবস্থায় থাকে
  • যেমন- সাইকাস, পাইনাস ইত্যাদি
আবৃতবীজী উদ্ভিদ
  • ফুলে গর্ভাশয় থাকে, যেখান থেকে ফল উৎপন্ন হয়
  • বীজ ফলের মধ্যে আবৃত থাকে
  • বীজে বীজপত্রের সংখ্যা অনুযায়ী একবীজপত্রীদ্বিবীজপত্রী দুই ভাগে ভাগ করা হয়
  • যেমন- গোলাপ, আম, কাঁঠাল

আর হ্যা, আমরা গোলাপ, জবা এরকম যে বিভিন্ন ফুল গাছগুলো চিনি, ওগুলোতেও কিন্তু ফল হয়!