কোষ
জীবের শ্রেণিবিন্যাসে আমরা দেখেছি সরল আণুবীক্ষণিক জীব থেকে নিয়ে জটিল গঠন ও বৈশিষ্ট্যের প্রাণী বা উদ্ভিদ এরকম জীবের রকমফের। এই বৈচিত্রের মাঝে একটা বৈশিষ্ট্য সব জীবের মধ্যে আছে। সব রকমের জীবদেহ কোষ দিয়ে তৈরি।
একটা বিল্ডিং যেমন একটার পর একটা ইট বসিয়ে তৈরি হয়, কোষ একটা জীবদেহের জন্য খানিকটা তেমনই। আমাদের দেহও অসংখ্য কোষ দিয়ে গঠন হয়েছে। যেকারণে কোষ হলো জীবদেহের গাঠনিক একক।
আবার জীবদেহের যে সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলো আছে- যেমন, শক্তি উৎপাদন, বৃদ্ধি, পরিবেশের প্রতি সাড়া প্রভৃতি, কোষ হলো সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম অংশ যা জীবের এই বৈশিষ্ট্যগুলো প্রকাশ করে। এই কারণে কোষ জীবদেহের কার্যিক এককও।
তাহলে কোষ কী? কোষ হলো জীবদেহের গঠন ও কাজের ক্ষুদ্রতম একক যা জীবনের সব ধরণের লক্ষণ প্রকাশ করতে পারে।
ক্ষুদ্রতম একক কেন বলছি? আমরা একটু পরে পড়বো কোষের ভেতরে অনেকরকম অঙ্গাণু আছে। যেমন- নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া প্রভৃতি। এই অংশগুলোর প্রত্যেকের গুরুত্ব আছে, কিন্তু এককভাবে এরা জীবনের সব বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করবে না। কোষ হলো ক্ষুদ্রতম অংশ যেখানে আমরা জীবনের সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলো দেখতে পাবো। যেকারণে শুধু একটা কোষ দিয়েই একটা জীবদেহ তৈরি হতে পারে, যারা জীবের যে সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলো আমরা পড়েছি সবগুলোই প্রকাশ করবে।
সাধারণত কোষ অবশ্য অনেক ক্ষুদ্র হয়। আণুবীক্ষণিক, মানে অণুবীক্ষণ যন্ত্র ছাড়া দেখা যায় না। যেকারণে আমরা এমনিতে কোষ দেখতে পায় না। যদি তুমি সাধারণ যৌগিক অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে দেখবেতে পারো, তখন কোষগুলো তুমি ছোট ছোট খোপের মত দেখতে পাবে। কোষের ভেতরের গঠন যদি দেখতে হয়, তাহলে শক্তিশালী ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্র দরকার হবে।
তবে ব্যতিক্রম আছে। যেমন উটপাখির ডিম হলো সর্ববৃহৎ কোষ। মুরগি বা বিভিন্ন পাখির ডিম একটাই কোষ দিয়ে তৈরি। মায়ের গর্ভে মানুষেরও জীবন শুরু হয় একটামাত্র কোষ থেকে। পরে সেই কোষ বিভাজিত হয়ে নতুন কোষ, তারপর সেগুলো আবারো বিভাজিত হয়ে আরো কোষ, এভাবে অসংখ্য কোষের জীবদেহ তৈরি হয়।