অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে কোষ
উদ্ভিদজাত একটা কর্কের ছিপি যৌগিক অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে দেখছিলেন ইংরেজ বিজ্ঞানী রবার্ট হুক। তিনি দেখলেন কিছুটা মৌচাকের মত অনেকগুলো খোপের মত বিন্যাস দেখলেন। সেটাই ছিলো জীবকোষের আবিষ্কার। তার দেখা সেই দৃশ্যের একটা ছবিও এঁকে ফেললেন তিনি, যা ১৬৬৫ সালে তার বই Micrographia-তে প্রকাশ করেন।

ছবি: রবার্ট হুকের আঁকা কর্কের মধ্যে কোষের বিন্যাস
সরল অণুবীক্ষণ যন্ত্রে একটা লেন্স ব্যবহার করা হয়। আমরা ম্যাগনিফাইং গ্লাস দেখেছি হয়ত। তার থেকে তফাৎ হলো এখানে টিউব ব্যবহার করে বিশেষভাবে তৈরি করাতে বস্তু আর চোখ রাখার জায়গাটা ঠিক থাকে। আর সাধারণত আরো শক্তিশালী লেন্স ব্যবহার করা হয়। ফলে সাধারণ ম্যাগনিফাইং গ্লাস থেকে ক্ষুদ্র জিনিসকে আরো পরিষ্কারভাবে ও আরো বড় করে দেখা যায়।
এখন আমরা যদি একটা লেন্স দিয়ে ১০ গুণ বড় করে দেখতে পারি, তারপর সেটাকে আরেকটা লেন্স দিয়ে আবারো ১০ গুণ করি, তাহলে কিন্তু ১০ × ১০, মানে ১০০ গুণ বড় হয়ে যাবে। তো যৌগিক অণুবীক্ষণ যন্ত্র এই ধারণাটাই ব্যবহার করে। এখানে একটা লেন্সের পরিবর্তে একাধিক লেন্স ব্যবহার করা হয়।
তোমার এখন মনে হতে পারে তাহলে তো আমরা অনেকগুলো লেন্স ব্যবহার করে ইচ্ছেমত কোন কিছু বড় করতে পারি। আসলে ব্যাপারটা এমন না। মনে কর, তুমি লো রেজ্যুলেশনে একটা ভিডিও দেখছো, এটাকে বড় ডিসপ্লেতে ফুল স্ক্রিনে দেখলে বড় করে দেখা যাবে ঠিকই, তবে অস্পষ্ট দেখাবে। যৌগিক অণুবীক্ষণ যন্ত্র তৈরিতেও এরকম সীমারেখা আছে।
এজন্য আরো আধুনিক অণুবীক্ষণ যন্ত্র আছে। ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্র কিছুটা ভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি হয়, যা সাধারণ যৌগিক অণুবীক্ষণ যন্ত্র থেকে অনেকগুণ বেশি শক্তিশালী।
সাধারণ যৌগিক অণুবীক্ষণ যন্ত্রে আমরা যদি একটা পেঁয়াজের কোষ পর্যবেক্ষণ করি, তা কিছুটা রবার্ট হুকের আঁকা ছবির মতই দেখাবে। জীবকোষের ভেতরে আরো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অঙ্গাণু রয়েছে, ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্র ব্যবহার করে সেগুলো দেখা যায়।

ছবি: যৌগিক অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে পেঁয়াজ কোষ