কোষের গঠন
সাধারণ যৌগিক অণুবীক্ষণ যন্ত্রে কোষের বিন্যাস মোটামুটিভাবে দেখা যায়। ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে কোষের অভ্যন্তরীণ গঠন পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে।
জীবভেদে কোষের গঠনে কিছু তফাৎ দেখা যায়। উদাহরণস্বরূপ- উদ্ভিদকোষে সেলুলোজনির্মিত কোষপ্রাচীর থাকে, প্রাণীকোষে থাকে না। ছত্রাকে কোষপ্রাচীর থাকে, কিন্তু কাইটিন নির্মিত।
কোষের গঠন
- কোষপ্রাচীর (Cell Wall)
- প্রোটোপ্লাজম
- কোষঝিল্লি (Cell Membrane)
- সাইটোপ্লাজম
- সাইটোপ্লাজমীয় অঙ্গাণু (প্লাস্টিড, কোষগহ্বর, মাইটোকন্ড্রিয়া প্রভৃতি)
- নিউক্লিয়াস
- নিউক্লিয়ার মেমব্রেন
- নিউক্লিওপ্লাজম
- নিউক্লিওলাস
উদ্ভিদকোষে জড় কোষপ্রাচীর সম্পূর্ণ কোষকে আবদ্ধ রাখে। কোষের জৈবিক অংশটুকু হলো প্রোটোপ্লাজম। যা কোষঝিল্লি নামক নরম পর্দাতে ঘেরা থাকে। কোষঝিল্লির ভেতরে সাইটোপ্লাজম ও নিউক্লিয়াস থাকে। সাইটোপ্লাজম অর্ধতরল অংশ, যা বেশ কিছু অঙ্গাণু ধারণ করে, যাদেরকে সাইটোপ্লাজমীয় অঙ্গাণু বলে।
কোষপ্রাচীর:
- উদ্ভিদকোষে সেলুলোজনির্মিত কোষপ্রাচীর থাকে
- কোষপ্রাচীর জড় পদার্থের তৈরি দৃঢ় গঠন
- কোন কোন কোষ প্রাচীরে ছিদ্র থাকে, যাকে কূপ বলে
- প্রাণীকোষে কোষপ্রাচীর থাকে না
- কাজ:
- কোষের আকার প্রদান করা
- কোষের ভেতরের অংশকে রক্ষা করা
প্রোটোপ্লাজম:
কোষের সম্পূর্ণ জৈবিক অংশ হলো প্রোটোপ্লাজম
কোষপ্রাচীর দ্বারা পরিবেষ্টিত (উদ্ভিদকোষের ক্ষেত্রে)
প্রোটোপ্লাজমকে জীবনের ভিত্তি বলা হয়
তিনটি অংশ
- কোষঝিল্লি
- সাইটোপ্লাজম
- নিউক্লিয়াস
কোষঝিল্লি:
- সম্পূর্ণ প্রোটোপ্লাজমকে ঘিরে রাখা নরম পর্দা
- কাজ: কোষের ভেতর ও বাইরে পানি, খনিজ পদার্থ ও গ্যাস চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা
সাইটোপ্লাজম:
- নিউক্লিয়াস ব্যতীত প্রোটোপ্লাজমের ভেতরের অর্ধতরল অংশ
- প্রধান কাজ: বিভিন্ন ক্ষুদ্র অঙ্গাণু ধারণ করা
- সাইটোপ্লাজমীয় অঙ্গাণুর মধ্যে আছে কোষগহ্বর, মাইটোকন্ড্রিয়া, প্লাস্টিড, গলজি বস্তু, এন্ডোপ্লাজমিক জালিকা প্রভৃতি
- সালোকসংশ্লেষণসহ কিছু শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া সাইটোপ্লাজমে সম্পন্ন হয়
নিউক্লিয়াস:
- প্রোটোপ্লাজমের মধ্যে ভাসমান গোলাকার ঘন বস্তু