ষষ্ঠ শ্রেণিতে আমরা জীবের শ্রেণিবিন্যাসে আদিকোষী ও প্রকৃতকোষী জীবদের রেখেছিলাম। অণুজীবের শ্রেণিবিন্যাসে আমরা অকোষীয় আরেকটি ভাগ অন্তর্ভুক্ত করব, যেখানে আমরা ভাইরাসকে অন্তর্ভুক্ত করব।

অণুজীবের শ্রেণিবিন্যাস

  • রাজ্য ১ - এক্যারিওটা বা অকোষীয়: এদের দেহ কোষ দিয়ে গঠিত না। উদাহরণ- ভাইরাস।
  • রাজ্য ২ - প্রোক্যারিওটা বা আদিকোষী: এদের কোষের কেন্দ্রিকা বা নিউক্লিয়াস সুগঠিত না। উদাহরণ- ব্যাকটেরিয়া
  • রাজ্য ৩ - ইউক্যারিওটা বা প্রকৃতকোষী: এদের কোষের কেন্দ্রিকা বা নিউক্লিয়াস সুগঠিত। উদাহরণ- শৈবাল, ছত্রাক ও প্রোটোজোয়া

গ্রিক শব্দ ক্যারিওন অর্থ কেন্দ্র- যা জীবকোষের নিউক্লিয়াসকে নির্দেশ করে।

অণুজীবের বৈশিষ্ট্য

  • অণুবীক্ষণ যন্ত্র ব্যতীত খালি চোখে দেখা যায় না
  • অধিকাংশের কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস নেই
  • বৈজ্ঞানিক ধারণা অনুসারে অণুজীব থেকে জীবনের সূত্রপাত হয়েছে, যেকারণে এদের আদিজীবও বলা হয়

এতরকম জীবের উদ্ভব কীভাবে ঘটলো, এই প্রশ্নের ব্যাখ্যায় সাধারণভাবে বৈজ্ঞানিক অবস্থান মোটামুটি এরকম যে প্রথমে সরলতম জীবদের উদ্ভব ঘটেছে, সেখান থেকে ক্রমান্বয়ে বিবর্তনের মধ্য দিয়ে আরো জটিলতর প্রাণের দিকে উদ্ভব হয়েছে। আধুনিক জীববিজ্ঞান আসলে অনেক মৌলিকভাবে এই ধারণার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, যেকারণে এটা আলোচনায় আনা গুরুত্বপূর্ণ। উদাহরণস্বরূপ, শ্রেণিবিন্যাসে আমরা যে নিম্নশ্রেণি বা উচ্চশ্রেণির জীব শব্দগুলো ব্যবহার করছি, এই শব্দগুলো মূলত এই ধারণা থেকেই ব্যাখ্যা করা যায়।

প্রাণের উদ্ভব ও বিকাশের মত প্রশ্নগুলোতে কিছু কিছু জায়গায় বিজ্ঞান ও ধর্ম পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় না বা কিছু জায়গায় বিজ্ঞান একদম সুনির্দিষ্ট উত্তর দেয় না। আসলে বিজ্ঞানে আমরা আমাদের পর্যবেক্ষণের সীমার মধ্যে থেকে বিভিন্ন ঘটনা বুঝতে ও সর্বোচ্চ সম্ভাব্য ব্যাখ্যায় পৌঁছাতে চেষ্টা করি। সৃষ্টিকর্তা ও সৃষ্টির ধারণা সরাসরি আমাদের পর্যবেক্ষণযোগ্য বিষয়ের মধ্যে পড়ে না, কাজেই এখানে সৃষ্টিকর্তার ভূমিকা প্রভৃতি বিষয়গুলো বিজ্ঞানের সীমারেখার অধীনে পড়ে না।