ভাইরাস
ভাইরাস কী?
আমরা কোষ সম্পর্কে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়েছি। আমরা বলেছিলাম, কোষ হলো জীবের গঠন ও কাজের একক। আমরা দেখি যে সন্তানসন্ততির মধ্যে বাবা-মায়ের বৈশিষ্ট্যের মিল দেখা যায়। এই বৈশিষ্ট্যগুলো মূলত কোষের মধ্যে থাকা নিউক্লিক এসিডের মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্মে সঞ্চারিত হয়। নিউক্লিক এসিড দুরকম হয়- ডিএনএ ও আরএনএ।
ভাইরাস মূলত প্রোটিন বা আমিষ আবরণে আবৃত নিউক্লিক এসিড। ভাইরাসের উৎপত্তি জীবকোষ থেকে হয়েছে না পৃথকভাবে এটা নিয়ে বিতর্ক আছে। তবে কোষের অন্য কোন অঙ্গাণু এখানে উপস্থিত নেই। যেকারণে ভাইরাসকে অকোষীয় বলা হয়। জীবের যে বৈশিষ্ট্যগুলো আছে, যেমন- শক্তি উৎপাদন, বৃদ্ধি প্রভৃতিতে ভাইরাস সক্ষম না। তবে ভাইরাস অন্য কোন জীবকোষের সংস্পর্শে আসলে সেই কোষের উপাদানগুলো ব্যবহার করে সংখ্যাবৃদ্ধিসহ জীবনের কিছু লক্ষণ প্রকাশ করতে পারে।
ভাইরাস: ভাইরাস হলো আমিষ আবরণে আবৃত নিউক্লিক এসিড (ডিএনএ অথবা আরএনএ)
ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য
- সরলতম গঠনের, শুধুমাত্র নিউক্লিক এসিড ও আমিষ আবরণ দিয়ে গঠিত
- অকোষীয়- কোষপ্রাচীর, প্লাজমালেমা, সুসংগঠিত নিউক্লিয়াস, রাইবোজম, সাইটোপ্লাজম ইত্যাদি কিছুই নেই
- সাধারণ অণুবীক্ষণ যন্ত্রে ভাইরাস দেখা যায় না, ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রের প্রয়োজন হয়
- আমিষ আবরণ থেকে নিউক্লিক এসিড পৃথক করা হলে ভাইরাস জীবনের সব লক্ষণ হারিয়ে ফেলে, তবে পুনরায় অন্য জীবদেহে আমিষ আবরণ ও নিউক্লিক এসিডকে একত্র করলে জীবনের লক্ষণ ফিরে পায়
- জীবিত জীবদেহের বাইরে স্বাধীনভাবে ভাইরাস জীবনের কোন লক্ষণ প্রকাশ করতে পারে না। একারণে ভাইরাস প্রকৃত পরজীবী
- ভাইরাস বিভিন্ন আকৃতির হয়- গোলাকার, দন্ডাকার, ব্যাঙাচির ন্যায় ও পাউরুটির ন্যায়
ভাইরাসের অপকারিতা
- ভাইরাস কোভিড-১৯, বসন্ত, হাম, সর্দি, জলাতঙ্ক, এইডস প্রভৃতি রোগ সৃষ্টির জন্য দায়ী
- ধানের টুংরো রোগ, তামাকের মোজাইক রোগ ইত্যাদি ভাইরাসঘটিত রোগের ফলে ফসলের ক্ষতি হয়
ভাইরাসের উপকারিতা
- বসন্ত, পোলিও ও প্লেগের টিকা ভাইরাস থেকে তৈরি
- জিন প্রকৌশলে ভাইরাস ব্যবহার হয়
- ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ প্রতিরোধে
ভাইরাস যেহেতু সংস্পর্শে আসলে পরজীবীর মত জীবকোষকে সংক্রমণ করে, কাজেই ভাইরাস প্রধানত বিভিন্ন রোগ সৃষ্টির জন্য দায়ী। তবে ভাইরাসের এই বৈশিষ্ট্য কাজে লাগিয়েই বিভিন্ন রোগের প্রতিষেধক ও টিকা আবিষ্কারে ভাইরাসকে ব্যবহার করা সম্ভব হয়েছে।
জীববিজ্ঞানে জিন হলো নিউক্লিক এসিডের মধ্যে থাকা নিউক্লিওটাইডের বিন্যাস। নিউক্লিক এসিড যে বংশগতির বৈশিষ্ট্যগুলো সঞ্চারিত করে, তা মূলত এই নিউক্লিওটাইডের বিন্যাসের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।