রবার্ট হুকের আঁকা ছবিতে আমরা পাশাপাশি কোষগুলোর বিন্যাস দেখতে পাই। সাধারণ যৌগিক অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে যদি আমরা কোষ পর্যবেক্ষণ করি, আমরা প্রায় অনুরূপ একটা দৃশ্য দেখতে পাবো। কোষ নিজেই আণুবীক্ষণিক, এর অভ্যন্তরীণ গঠনগুলো এত ক্ষুদ্র যে সাধারণ অণুবীক্ষণ যন্ত্রেও তা দেখা যায় না। তবে শক্তিশালী ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রের আবিষ্কার আমাদের কোষের অভ্যন্তরীণ গঠন ভালোভাবেে দেখতে সাহায্য করেছে।

প্রকৃতকোষী জীবদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন জীবে, বা একই জীবে ভিন্ন ভিন্ন কাজে নিয়োজিত কোষের গঠনে কিছু তফাৎ দেখা যায়। যেমন, উদ্ভিদকোষ ও প্রাণীকোষের গঠনে ভিন্নতা আছে, কিছু কিছু অঙ্গাণুর উপস্থিতিতে তারতম্য আছে। যাইহোক, কোষের গঠনের একটা সাধারণ সামগ্রিক চিত্র আমরা এভাবে চিন্তা করতে পারি-

  • কোষপ্রাচীর (Cell Wall)
  • প্রোটোপ্লাজম
    • কোষঝিল্লি (Cell Membrane)
    • সাইটোপ্লাজম
      • সাইটোপ্লাজমীয় অঙ্গাণু
        • ঝিল্লিযুক্ত অঙ্গাণু (মাইটোকন্ড্রিয়া, প্লাস্টিড, গলজি বস্তু, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি)
        • ঝিল্লিবিহীন অঙ্গাণু (কোষকঙ্কাল, রাইবোজোম, সেন্ট্রোজোম ইত্যাদি)
    • নিউক্লিয়াস
      • নিউক্লিয়ার মেমব্রেন
      • নিউক্লিয়ার রন্ধ্র
      • নিউক্লিওপ্লাজম
      • নিউক্লিওলাস
      • নিউক্লিয়ার রেটিকুলাম

কোষপ্রাচীর হলো একটা জড় প্রাচীর, যা উদ্ভিদকোষ সহ বিভিন্ন জীবকোষে থাকে। আমরা চিন্তা করতে পারি, আমাদের দেহে নখ, চুল প্রভৃতি জড় উপাদান যেমন আছে। প্রাণীকোষে কোষপ্রাচীর থাকে না। অন্যদিকে কোষের সজীব অংশটুকু হলো প্রোটোপ্লাজম। প্রোটোপ্লাজম যে সজীব বৈষম্যভেদ্য ঝিল্লিতে আবৃত তা হলো কোষঝিল্লি। কোষঝিল্লির ভেতরে এক ধরণের অর্ধতরল জেলির মত পদার্থ থাকে, যা বিভিন্ন অঙ্গাণু ধারণ করে, একে সাইটোপ্লাজম বলে। অন্যদিকে প্রোটোপ্লাজমের ভেতরে বংশগতির বস্তুগুলো নিয়ে যে অংশটুকু তাকে বলা হয় নিউক্লিয়াস। নিউক্লিয়াস প্রোটোপ্লাজমের অংশ, তবে সাইটোপ্লাজমের অংশ না।

নিচে উদ্ভিদকোষ ও প্রাণীকোষের ছবি দেয়া আছে। ছবিগুলো নিজে নিজে আঁকাতে হবে। এটা পরীক্ষাতেও দরকার হবে, পাশাপাশি কোষের গঠনটাও আত্মস্থ করতে সাহায্য করবে।

plant-cell

ছবি: উদ্ভিদকোষের গঠন

animal-cell

ছবি: উদ্ভিদকোষের গঠন