আমরা জীবের শ্রেণিবিন্যাসে দেখেছি সব জীব একই ধরণের নয়। আমরা দেখেছি কিছু জীবের গঠন তুলনামূলক সরল, আর কিছু জীবের গঠন জটিল প্রকৃতির। অনুন্নত জীব যারা আছে, তাদের দেহ হয়ত একটামাত্র কোষ দিয়ে গঠিত। সেই কোষটাও হতে পারে খুব সরল প্রকৃতির। কখনো তারা হয়ত দলবদ্ধভাবে কলোনি বা ফিলামেন্ট গঠন করছে, কিন্তু সেখানে প্রতিটা কোষ মূলত আলাদা আলাদাভাবে কাজ করছে।

ছত্রাকের কথা মনে কর এবার। তাদের দেহে কোষ আছে, কোষগুলো সূত্রাকার মাইসেলিয়াম গঠন করে। সেই মাইসেলিয়াম ছত্রাকের দেহ গঠন করে। অনেক ছত্রাকে ছাতার মত একটা অংশও তৈরি হয়। ব্যাকটেরিয়া আর অ্যামিবাদের থেকে তুলনামূলক একটু জটিল গঠন তো বটেই। কিন্তু এখন একবার আমাদের কথা চিন্তা করি। আমাদের হাত, পা, চোখ, কান সবকিছু কোষ দিয়ে গঠিত। প্রতিটা অঙ্গে অগণিত কোষ, কিন্তু কোষগুলোর মাঝে কি বিস্ময়কর সমন্বয়, সবগুলো একত্রে কতরকম জটিল বিন্যাস আর কার্যক্রম সম্পাদন করছে।

তো সব জীবদেহ যদিও কোষ দিয়ে গঠিত, উন্নত জীবদেহগুলোতে কোষগুলোর মধ্যে আরো উচ্চতর সমন্বয় আছে। একাধিক কোষ একসাথে নির্দিষ্ট কোন গঠন তৈরি করছে বা নির্দিষ্ট কোন কাজ করছে। এভাবে একগুচ্ছ কোষ একত্রে কোন ভূমিকা রাখলে তাকে আমরা বলি টিস্যু, যেমন- পেশি টিস্যু, আবরণী টিস্যু প্রভৃতি। যখন এক বা একাধিক টিস্যু মিলে একটা নির্দিষ্ট কাজে নিয়োজিত গঠন তৈরি করে- সেটাকে আমরা বলি অঙ্গ, যেমন আমাদের হাত-পা, উদ্ভিদের কান্ড, পাতা। আর একাধিক অঙ্গ মিলে একটা শারীরবৃত্তীয় কাজে নিয়োজিত থাকলে সেটা হলো তন্ত্র। যেমন নাসারন্ধ্র, শ্বাসনালি, ফুসফুস প্রভৃতি মিলে শ্বসনতন্ত্র।

কোষ, টিস্যু, অঙ্গ, তন্ত্রের জন্য আমাদের আরেকটু কেতাবি ভাষায় সংজ্ঞা সামনে অবশ্য পড়তে হবে, তবে আশা করছি মূল ধারণাটা ধরতে পারছো।