কোষপ্রাচীর
সেলুলোজনির্মিত কোষপ্রাচীর উদ্ভিদকোষের একটি গুরুত্বপূর্ণ শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য। প্রাণীকোষে কোষপ্রাচীর থাকে না। ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়াতে কোষপ্রাচীর থাকে, তবে তা সেলুলোজনির্মিত না। উদ্ভিদের বাইরে কিছু শৈবালে সেলুলোজনির্মিত কোষপ্রাচীর দেখা যায়।
কোষপ্রাচীরের উপাদান
কোষপ্রাচীর জড়বস্তু দিয়ে তৈরি, সজীব না।
উদ্ভিদের কোষপ্রাচীরের রাসায়নিক উপদানের মধ্যে রয়েছে- সেলুলোজ, হেমিসেলুলোজ, লিগনিন, পেকটিন, সুবেরিন পদার্থগুলো।
ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীর প্রোটিন, লিপিড ও পলিস্যাকারাইড দিয়ে তৈরি।
ছত্রাকের কোষপ্রাচীর কাইটিননির্মিত।
কোষপ্রাচীরের গঠন

ছবি: কোষপ্রাচীরের গঠন
প্রাথমিক প্রাচীর: কোষ থেকে সবচেয়ে বাইরের দিকের প্রাচীরটি প্রাথমিক প্রাচীর। এটি একস্তরবিশিষ্ট।
গৌণপ্রাচীর: অনেক কোষে প্রাথমিক প্রাচীরের ভেতরে প্রোটোপ্লাজম থেকে নিঃসৃত কয়েক ধরণের পদার্থ মিলের গৌণ প্রাচীর সৃষ্টি করে, যা তিন স্তরের হয়- বহিঃস্তর, মধ্যস্তর, অন্তঃস্তর। গৌণপ্রাচীরের মাঝেমাঝে ছিদ্র থাকে, যাকে কূপ বলে।
মধ্য পর্দা: পাশাপাশি দুটো কোষকে পৃথক করা স্তর।
প্রস্থচ্ছেদের ছবিতে গৌণপ্রাচীরের ভেতরের অংশটুকু কোষ মনে কর। কোষের দিকের প্রাচীর হলো গৌণপ্রাচীর, আর বাইরের দিকের প্রাচীরটি প্রাথমিক প্রাচীর। তারপর মধ্য পর্দা, এবং তার পর পার্শ্ববর্তী কোষগুলোর প্রাথমিক প্রাচীর দেখা যাচ্ছে।
কোষপ্রাচীরের কাজ
- কোষকে দৃঢ়তা প্রদান করা
- কোষের আকার ও আকৃতি বজায় রাখা
- প্লাজমাডেজমাটা (আণুবীক্ষণিক নালি) সৃষ্টির মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী কোষের সাথে যোগাযোগ রক্ষা এবং পানি ও খনিজ লবণের পরিবহন নিয়ন্ত্রণ করা