প্রোটোপ্লাজম
প্রোটোপ্লাজম হলো কোষের সজীব অংশটুকু। প্রোটোপ্লাজমের তিনটি অংশ-
- কোষঝিল্লি
- সাইটোপ্লাজম
- নিউক্লিয়াস
কোষঝিল্লি সম্পূর্ণ প্রোটোপ্লাজমকে পরিবেষ্টন করে রাখে, এবং সাইটোপ্লাজমীয় অঙ্গাণুগুলো সহ সাইটোপ্লাজম এবং নিউক্লিয়াস তার মধ্যে থাকে।
তাহলে, কোষঝিল্লি ও এর দ্বারা পরিবেষ্টিত সাইটোপ্লাজম ও নিউক্লিয়াসের সমন্বয়ে কোষের সজীব অংশটুকু হলো প্রোটোপ্লাজম।
কোষঝিল্লি (প্লাজমালেমা বা প্লাজমা মেমব্রেন)
কোষঝিল্লি: প্রোটোপ্লাজমকে পরিবেষ্টনকারী স্থিতিস্থাপক বৈষম্যভেদ্য পর্দাকে কোষঝিল্লি বলে।
মাইক্রোভিলাই: কোষঝিল্লির ভাজকে মাইক্রোভিলাই বলে (মূলত প্রাণীকোষের বৈশিষ্ট্য)
কোষঝিল্লির উপাদান: প্রধানত লিপিড ও প্রোটিন
কোষঝিল্লির কাজ:
- কোষগুলোকে পরস্পর থেকে আলাদা রাখে
- বৈষম্যভেদ্য হওয়াতে পাশাপাশি কোষগুলোকে পরস্পর থেকে আলাদা রাখে

ছবি: কোষঝিল্লি
আন্তঃকোষীয় স্থান পাশাপাশি দুটো কোষের মধ্যবর্তী জায়গা নির্দেশ করে।
সাইটোপ্লাজম
সাইটোপ্লাজম: নিউক্লিয়াস ব্যতীত প্রোটোপ্লাজমের ভেতরের অর্ধতরল জেলির মত বস্তু
সাইটোপ্লাজমের কাজ:
- বিভিন্ন ক্ষুদ্র অঙ্গাণু ধারণ করে, যাদেরকে সাইটোপ্লাজমীয় অঙ্গাণু বলে
- সালোকসংশ্লেষণসহ কিছ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া সাইটোপ্লাজমে সম্পন্ন হয়
সাইটোপ্লাজমীয় অঙ্গাণু
সাইটোপ্লাজমের মধ্যে বিভিন্ন অঙ্গাণু উপস্থিত থাকে, কোষের কার্যক্রমে যাদের প্রত্যেকের নির্দিষ্ট কিছু ভূমিকা থাকে। শক্তি উৎপাদন, খাদ্য প্রস্তুত বা সঞ্চয়, প্রতিরক্ষা, প্রোটিন সংশ্লেষণ প্রভৃতি ভূমিকা এই অঙ্গাণুগুলো পালন করে।
আবরণীতে বেষ্টিত কিনা তার ওপর ভিত্তি করে সাইটোপ্লাজমীয় অঙ্গাণু দুই প্রকার- ঝিল্লিযুক্ত ও ঝিল্লিবিহীন।
ঝিল্লিযুক্ত সাইটোপ্লাজমীয় অঙ্গাণু: মাইটোকন্ড্রিয়া, প্লাস্টিড, গলজি বস্তু, এন্ডোপ্লাজমিক জালিকা, কোষগহ্বর, লাইসোজম ঝিল্লিবিহীন সাইটোপ্লাজমীয় অঙ্গাণু: কোষকঙ্কাল, রাইবোজোম, সেন্ট্রোজোম
কোষভেদে কোন কোন অঙ্গাণু অনুপস্থিত থাকতে পারে, আবার কোন কোন কোষে কিছু অঙ্গাণু অধিক পরিমাণে থাকতে পারে।
নিউক্লিয়াস
নিউক্লিয়াস: প্রোটোপ্লাজমে থাকা পর্দাঘেরা ক্রোমোজম বহনকারী সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান বস্তুটি নিউক্লিয়াস।
সুগঠিত নিউক্লিয়াসের অংশগুলো:
- নিউক্লিয়ার ঝিল্লি
- নিউক্লিওপ্লাজম
নিউক্লিয়াসের কাজ:
- বংশগতির বৈশিষ্ট্য ধারণ করা
- কোষে সংগঠিত বিপাকীয় কার্যাবলীসহ সব ক্রিয়া-বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করা
সাইটোপ্লাজমীয় অঙ্গাণুগুলো ও নিউক্লিয়াসের অংশগুলো নিয়ে আমাদের আরো বিস্তারিত আলোচনা আসবে। তবে আমরা প্রথমে মনে মনে সামগ্রিক একটা চিত্র তৈরি করে নেয়ার চেষ্টা করছি, যেন একটা অংশ পড়তে থাকলে আগের সবকিছু ভুলে যেতে না থাকি!