পদার্থ কীভাবে তৈরি?
আমাদের চারপাশে পদার্থের বৈচিত্রের শেষ নেই। মৌলিক কোন জায়গায় কি মিল থাকতে পারে এদের? এমন কিছু, যা দিয়ে সব পদার্থকে আমরা এক সুতোয় নিয়ে আসতে পারবো? যদি পারি, তাহলে পদার্থের গঠনকে আমরা আরেকটু ভেতর থেকে বুঝতে পারবো। এক পদার্থ থেকে অন্য পদার্থে রূপান্তরের জাদুটাও হয়ত তখন আয়ত্ত্ব করা যাবে!
পদার্থের গঠন
গ্রিক দর্শন ও অ্যারিস্টটলের মতবাদ: মাটি, পানি, বায়ু ও আগুন দিয়ে সব পদার্থ তৈরি
ডেমোক্রিটাসের মতবাদ: প্রতিটি পদার্থ অজস্র ক্ষুদ্র এবং অবিভাজ্য কণার সমন্বয়ে গঠিত অবিভাজ্য → Atomon → Atom
জন ডাল্টন: পরীক্ষামূলকভাবে ডেমোক্রিটাসের ধারণার অনুরূপ পদার্থের অতিক্ষুদ্র অবিভাজ্য এককের পক্ষে মতবাদ দেন → ডাল্টনের পরমাণু তত্ত্ব
আধুনিক ধারণা: পরমাণু অবিভাজ্য নয়- ইলেকট্রন, প্রোটন, নিউট্রন প্রভৃতির সমন্বয়ে তৈরি
পরমাণু ও অণু
পরমাণু: মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যাতে মৌলের সব গুণাগুণ বজায় থাকে।
স্বর্ণ (Au) এর প্রতিটি পরমাণু এর সোনালি রং, ধাতব বৈশিষ্ট্য, রাসায়নিক ধর্ম প্রভৃতি গুণাগুণ ধারণ করে। কিন্তু পরমাণুর মধ্যে থাকা ইলেকট্রন, প্রোটন বা নিউট্রন আলাদাভাবে এই সবগুলো বৈশিষ্ট্য ধারণ করে না।
অণু: একাধিক মৌল রাসায়নিক বন্ধনে যুক্ত থাকলে তাকে অণু বলে।
মৌলিক পদার্থ ও যৌগিক পদার্থ
মৌলিক পদার্থ: যেসকল পদার্থকে ভাঙলে (রাসায়নিকভাবে বিশ্লেষণ করলে) শুধু সেই একটি পদার্থ-ই পাওয়া যায়, তাকে মৌল বা মৌলিক পদার্থ বলে
- মৌলিক পদার্থ ১১৮টি
- প্রকৃতিতে পাওয়া যায় ৯৮টি
- অন্যান্য মৌলগুলো গবেষণাগারে তৈরি, গবেষণাগারে তৈরি মৌলগুলোকে কৃত্রিম মৌল বলে
যৌগিক পদার্থ: যেসকল পদার্থকে ভাঙলে দুই বা এর অধিক মৌল পাওয়া যায়, তাকে যৌগ বা যৌগিক পদার্থ বলে
- যৌগের মধ্যে মৌলসমূহের অনুপাত সবসময় একই থাকে। যেমন পানিতে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের অনুপাত 2:1
মিশ্র পদার্থ
রাসায়নিক বন্ধন ছাড়া একাধিক মৌল ও যৌগের সমন্বয়ে তৈরি পদার্থ, যেখানে রাসায়নিকভাবে প্রত্যেক পদার্থের গুণাগুণ অক্ষুণ্ন থাকে।
যেমন- চিনির শরবতে পানির গুণাগুণ, চিনির মিষ্টতা বজায় থাকে। পানির মধ্যে দ্রবীভূত অবস্থায় চিনির কণাগুলো থাকে, নতুন পদার্থ তৈরি হয় না।